বাউল সম্রাটের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক ও সংগীতালয় নির্মাণ করা হবে-জেলা প্রশাসক

মোশাহিদ আহমদ : সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেছেন, শাহ আবদুল করিম ছিলেন একজন মানবতাবাদী। ধন- সম্পদ, দালান কোঠার প্রতি কোন মোহ ছিলনা তাঁর, আজীবন মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন তিনি। নির্লোভ নিরহংকার এই গুনি মানুষের রেখে যাওয়া আদর্শ আমাদের মাঝে ধারণ করতে হবে।

গতকাল শনিবার দিরাই উপজেলার উজানধল মাঠে শাহ আবদুল করিম লোক উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দিরাই ধল সড়ক থেকে শাহ আবদুল করিমের বাড়ি পর্যন্ত সারমারজেবল সংযোগ সড়ক এবং ভক্ত অনুরাগীদের জন্য একটি সংগীতালয় নির্মাণ করা হবে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৪ জন গুণি মানুষের নামে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে, এরমধ্যে শাহ আবদুল করিম রয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তারা আগের মতো সাধারণ মানুষকে ধমক দিতে পারেন না, এটাই বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জের সাথে সুনামগঞ্জের তুলনা করেছেন, এটা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, সুনামগঞ্জে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন, হাওরে ফ্লাইওভার, ক্যাডেট কলেজসহ অনেক কিছু হবে, এজন্য আমাদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুদিনব্যাপী লোক উৎসবের সমাপনী দিবসে রাত ৭ টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সংস্কৃতিকর্মী আপেল মাহমুদ, জয়ন্ত সরকারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, উপসচিব সৈয়দ ফারুক আহমদ, জৈন্তা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি হাবিবুর রহমান তালুকদার, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সাহেদ আহমদ, ভাইস প্রিন্সিপাল ইমরান আহমদ, সাংবাদিক আবু হানিফ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করিমপুত্র শাহ নুরজালাল। দুদিনব্যাপী লোক উৎসবে করিমভক্তদের সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সুষমা দাস, সুনামধন্য গায়ক আশিক, লায়লা, পাগল হাসান, জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, আব্দুর রহমান বয়াতী প্রমুখ।