দিরাইয়ে উদ্বোধনের আগেই হেলে পড়েছে গাইডওয়াল : গচ্চা ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা

মোশাহিদ আহমদ :: উদ্বোধনের আগেই হেলে পড়েছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কালনী নদীর উপর নবনির্মিত ব্রিজের এপ্রোচ সড়কের গাইডওয়াল। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে ব্যয় করা সরকারের ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা গচ্চা গেছে। তাছাড়াও এপ্রোচ সড়ক অকেজো হয়ে পড়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালনী ব্রিজ। শুধু তাই নয় এর ফলে কালনী নদীতে দুইভাগে বিভক্ত দিরাই উপজেলাকে একত্রীকরণের স্বপ্নের যোগাযোগ হুমকিতে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিজের পশ্চিম পাড়ের এপ্রোচ সড়কের একপাশের দুইদিকে দুইশত পঁয়ত্রিশ মিটার গাইডওয়াল হেলে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক ব্যবহার করে ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়। হেলে পড়ায় এপ্রোচ সড়কের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ যেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল ধ্বংসস্তূপ। এই উন্নয়ন কাজ এখন শহরের বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। জানা যায়, উপজেলার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মিটার দৈর্ঘ্যের কালনী ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের উভয়পাশে গাইডওয়াল দিয়ে তিনশ’ ৭৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় মেসার্স নুরুল ইসলাম নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সংযোগ সড়কের উপজেলা সদর পাড়ে টি আকারে একদিকে ১৩৩ ও অন্যদিকে ১০০ মিটার সংযোগ সড়কের উভয়পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি ভরাট করে এইচবিবি (ইটসলিং) করা হয়। এই পাড়ের উপজেলা রোডমুখী সংযোগ সড়কের পূর্বদিকের গাইডওয়ালটি প্রায় দেড় ফুট হেলে গিয়ে ধনুক আকার ধারণ করেছে। বাজারমুখী সংযোগ সড়কের পশ্চিম দিকও অনেকটা হেলে গেছে। সংযোগ সড়কটি হেলে পড়ায় এলাকাবাসীর আলোচনা-সমালোচনার মুখে, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ঠিকাদারের মাধ্যমে সংযোগ সড়কের মাটি খুঁড়ে রড দ্বারা একপাশের গাইডওয়ালের সঙ্গে অন্যপাশের গাইডওয়াল টানা দিয়ে ওয়ালটি রক্ষার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ব্রিজের অপর পাড়ে ৬০ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলেও সেখানে নামমাত্র মাটি ভরাট করা হয়েছে। এদিকে, ২০১৯ সালের শেষের দিকে কাজ সম্পাদন হয়েছে জানিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে পত্র দেয় নির্মাণ সংস্থাটি। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজ সম্পাদনের পত্র প্রেরণ করা হলেও অফিসিয়ালি তা গ্রহণ করা হয়নি। দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, সংযোগ সড়কের উভয়পাশে দোকানঘরসহ বাসাবাড়ি রয়েছে। গাইডওয়ালটি হেলে পড়ায় এখানকার বাসিন্দাসহ সবার মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে শহরবাসীকে। দিরাই প্রেস ক্লাব সভাপতি হাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, কালনী নদী আমাদের উপজেলাকে দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছিলো। বিভক্ত উপজেলাবাসীর স্বপ্নের যোগাযোগ কালনী ব্রিজের গাইডওয়াল উদ্বোধনের আগেই হেলে পড়ায় আমরা হতাশ। এর ফলে শুধু কালনী ব্রিজ নয়, উপজেলার পূর্বাঞ্চলকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের গাফিলতি এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার অফিসে গিয়েও উনাকে পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে স্যারের (উপজেলা প্রকৌশলী) সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনের মোবাইল নং ০১৭১১৯৩০৮৭০ নম্বরে অনেকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।